মূল বিষয়বস্তুতে যান
+88 01768 003 747প্রতি শুক্রবার বিনামূল্যে ক্লিনিক, 10:00–14:00ফেসবুক(নতুন ট্যাবে খোলে)ENবাংলা
দান করুন

সাফল্যের গল্প

​সাফল্যের গল্প: আত্মপ্রত্যয়ী ঝরনা বেগমের ঘুরে দাঁড়ানোর আখ্যান

2022 সালে হাজির হাটির খাঁ বাড়ির ঝরনা বেগমকে AKWO-এর স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় একটি ছাগী দেওয়া হয়। এখন তাঁর ছয়টি ছাগল।

Jharna Begum holds two of the goats she has raised from the single animal AKWO gave her in 2022

ঝরনা বেগম (৫৭), খাঁ বাড়ি, হাজির হাটি।

সাফল্যের গল্প : ২০২২ সাল। জীবনের ৫৭টি বসন্ত পার করা ঝরনা বেগমের দিনগুলো কাটছিল চরম অনিশ্চয়তায়। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার মতো কোনো পুঁজি বা অবলম্বন ছিল না তার। ঠিক সেই সময়েই তার পাশে দাঁড়ায় আবুল খায়ের ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন (AKWO)। ২০২২ সালের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় তাকে একটি ছাগী প্রদান করা হয়।

​সংগ্রাম ও টিকে থাকা

অর্গানাইজেশন থেকে পাওয়া একটি ছাগলকে সম্বল করেই ঝরনা বেগম তার দিন বদলের চেষ্টা শুরু করেন। পরম মমতায় তিনি সেটির লালন-পালন করতে থাকেন। পথে কিছু প্রতিকূলতাও ছিল; রোগ-বালাইয়ের কারণে তার ৩টি ছাগল মারা যায়। কিন্তু ঝরনা বেগম দমে যাননি। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি বাকিগুলোর যত্ন অব্যাহত রাখেন।

​সাফল্যের বর্তমান চিত্র

পরিশ্রমের ফল পেতে খুব বেশি দেরি হয়নি। অর্গানাইজেশন থেকে পাওয়া সেই একটি ছাগী থেকেই আজ তার ছোট ছোট অর্জনগুলো দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ​বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে বাচ্চা সহ তার কাছে মোট ৬টি ছাগল রয়েছে। ​আর্থিক সচ্ছলতা: এর মধ্যে তিনি ইতিমধ্যে ৩টি ছাগল বিক্রি করে সংসারের জরুরি প্রয়োজন মিটিয়েছেন। ​ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: তার কাছে বর্তমানে ২টি বড় খাসি রয়েছে। ঝরনা বেগমের স্বপ্ন এখন আরও বড়। তিনি এই দুটি খাসি বিক্রি করে এবং সাথে জমানো কিছু টাকা যুক্ত করে একটি ছোট গরু বা বাছুর কেনার পরিকল্পনা করছেন।

ঝরনা বেগমের এই ঘুরে দাঁড়ানো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, সঠিক সময়ে সামান্য একটু সহযোগিতা পেলে একজন মানুষ কীভাবে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। একটি ছাগল থেকে গরু কেনার স্বপ্নে পৌঁছানোর এই যাত্রায় আবুল খায়ের ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন তার সঙ্গী হতে পেরে গর্বিত।

নবীনগরের হাজির হাটিতে নিজের ছাগলের পাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ঝরনা বেগম
ঝরনা বেগম তার ছাগলের পাল নিয়ে, হাজির হাটি

এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপট

2022 সালের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পে নবীনগর উপজেলার যেসব পরিবারের নিজস্ব কোনো পুঁজি ছিল না, তাদের গবাদিপশু দেওয়া হয়েছিল। এই কর্মসূচির অনুদান এককালীন ও শর্তহীন: কোনো ঋণ নেই, সুদ নেই, ফেরত দেওয়ার কিছু নেই, কারণ এমন অবস্থানের একটি পরিবারের দরকার একটি সম্পদ, ঋণ নয়।

ঝরনা বেগমের বয়ান এখানে তাঁর নিজের ভাষায় ও তাঁর সম্মতিতে প্রকাশ করা হয়েছে, রোগে তাঁর তিনটি পশু মারা যাওয়ার অংশটিসহ। ক্ষতির কথাটি আমরা ইচ্ছা করেই রাখি। কঠিন বছরগুলো বাদ দিয়ে লেখা গল্প কোনো কর্মসূচি কাজ করছে তার প্রমাণ নয়, আর পরের কর্মসূচিতে অর্থ দেওয়া হবে কি না যিনি ভাবছেন তাঁর কাছে সৎ বয়ানটিই বেশি কাজের।

এক নজরে তথ্য

অনুদানের বছর
2022
যতটি পশু দেওয়া হয়েছিল
1
আজ যতটি পশু
6
যতটি পশু বিক্রি হয়েছে
3
সাফল্যের গল্প থেকে আরও

আমাদের জীবিকা কাজের পাশে দাঁড়ান

পুঁজিহীন একটি পরিবারকে একবারেই দেওয়া একটি সম্পদ। একটি ছাগল, কিছু ওষুধের মজুত, একটি দোকান। এরপর পরিবারটি নিজের পায়েই চলে, আর এটাই এর উদ্দেশ্য।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার-এ নিবন্ধিত · রেজিস্ট্রেশন নম্বর Brahman 615/24

এরপর পড়ুন

Anhar behind the counter of the pharmacy he opened with a small grant from AKWOসাফল্যের গল্প

প্রতিকূলতা পেরিয়ে: আনহারের ফার্মেসি

আবুল খায়ের ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের ছোট একটি এককালীন অনুদানে নিজের ফার্মেসি খুলে আনহার স্বাবলম্বী হয়েছেন।

পড়তে 3 মিনিট

Masud holds his son outside their home in Nabinagarসাফল্যের গল্প

এক বাবার অদম্য মনোবল: মাসুদের দোকান

মাসুদ একাই তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলেকে বড় করছেন। AKWO-এর একটি অনুদান তাঁর চটপটির ব্যবসাটিকে শক্ত ভিতে দাঁড় করিয়েছে এবং পরিবারটিকে দিয়েছে নিয়মিত আয়।

পড়তে 3 মিনিট