মূল বিষয়বস্তুতে যান
+88 01768 003 747প্রতি শুক্রবার বিনামূল্যে ক্লিনিক, 10:00–14:00ফেসবুক(নতুন ট্যাবে খোলে)ENবাংলা
দান করুন

পরিচিতি

আমাদের প্রতিষ্ঠাতার বার্তা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জনসেবার জন্য পরিচিত একটি পরিবার কেন স্মৃতিস্তম্ভ নয়, বিনামূল্যের একটি ক্লিনিক গড়ার পথ বেছে নিল, তা নিয়ে লিখছেন প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন মার্শাল এম. হুসাইন (Marshall M. Hussain)।

আবুল খায়ের ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন মার্শাল এম. হুসাইন

একজন মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা

মার্শাল এম. হুসাইন (Marshall M. Hussain) 2019 সালে আবুল খায়ের ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং আজও এর চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রয়াত বাবা এ. কে. রফিকুল হুসাইন (A.K. Rafiqul Hussain)-এর নামে সংস্থাটির নামকরণ করেন তিনি, আর প্রথম নিয়মটিও তিনি নিজেই ঠিক করে দেন: এই সংস্থা কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নেবে না এবং মুনাফার জন্য কোনো ব্যবসা চালাবে না। নিচে তাঁর নিজের লেখা চিঠিটি যেভাবে লেখা হয়েছিল, সেভাবেই তুলে দেওয়া হলো।

আমরা যা পাই তা দিয়ে জীবিকা চালাই, আর যা দিই তা দিয়ে জীবন গড়ি।

মার্শাল এম. হুসাইন

জীবনের শুরুতে মানুষের সেবা করার যে গভীর বিশ্বাস ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমরা পথ চলা শুরু করেছিলাম, তারই ফসল আমাদের এই সংস্থা। আরও অনেক মহৎ মানুষের মতোই আমার প্রয়াত বাবা আবুল খায়ের রফিকুল হুসাইন, যিনি স্নেহভরে ‘খায়ের মিয়া’ নামে পরিচিত ছিলেন (সাবেক সংসদ সদস্য, ব্যারিস্টার ও একজন জাতীয় নেতা), এবং আমার দাদা পীর খাজা মাওলানা আব্দুল ওয়াসে (Pir Khwaja Mawlana Abdul Wasay), তাঁদের জীবন ছিল মানুষের কল্যাণে, বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মানুষের কল্যাণে, শতভাগেরও বেশি নিবেদিত।

নিজের মানুষের প্রতি ভালোবাসার জন্য তাঁরা আক্ষরিক অর্থেই নিজেদের জীবন দিয়ে গেছেন। আমার মূল দল ও আমি সেই একই মানুষগুলোর প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করি। আমার বাবা যেমন অনুভব করতেন, আমিও তেমনি তাঁদের হতাশা অনুভব করি এবং তাঁদের স্বপ্নকে ভালোবাসি। তাই রাজনৈতিক বা মুনাফাভিত্তিক ব্যবসার কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছাড়াই যতটুকু পারি সাহায্য করাই আমার বিনম্র চেষ্টা।

আমি যাঁদের চিনি তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে পরিশ্রমী মানুষগুলোকে আমরা শুধু একটি সুযোগ দিতে চাই, যাতে তাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারেন এবং সম্মানের সঙ্গে বাঁচার সুযোগ পান। আমি যেমন অনুপ্রাণিত হয়েছি, তেমনি আশা করি আমাদের যেটুকু সাফল্য, তা আমাদের সন্তানদের বা কোনো বন্ধুকে অনুপ্রাণিত করবে এবং তাঁদের নিজের এলাকাকে বদলে দেবে।

শুভেচ্ছান্তে,

মার্শাল এম. হুসাইন, প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন, আবুল খায়ের ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন।

এই চিঠি আমাদের যে অঙ্গীকারে বাঁধে

উপরের চিঠি থেকে তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়, আর এগুলোই সেই নিয়ম যার ভিত্তিতে সংস্থাটি চলে।

প্রথমত, রাজনীতি নয়, মুনাফাও নয়। প্রতিষ্ঠাতা স্পষ্ট করেই বলেছেন, এই প্রচেষ্টায় রাজনৈতিক বা মুনাফাভিত্তিক ব্যবসার কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। যে জেলায় জনকল্যাণমূলক কাজ প্রায়ই প্রার্থী হওয়ার সিঁড়ি, সেখানে এটি সত্যিকারের একটি বাধ্যবাধকতা, আর এ কারণেই আমরা স্থানীয় নির্বাচনে কোনো পক্ষ নিই না এবং কাউকে সমর্থনও দিই না।

দ্বিতীয়ত, নির্ভরতা নয়, মর্যাদা। লক্ষ্য হলো মানুষ যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারেন এবং সম্মানের সঙ্গে বাঁচার সুযোগ পান। এ কারণেই জীবিকা অনুদান ঋণ নয়, বরং একবারেই দেওয়া সম্পূর্ণ নিজস্ব সম্পদ, আর এ কারণেই শিক্ষা কর্মসূচিতে নগদ টাকা না দিয়ে পড়াশোনার খরচ মেটানো হয়।

তৃতীয়ত, এই কাজ হাতে হাতে এগিয়ে দেওয়ার জন্য। প্রতিষ্ঠাতা লিখেছেন, তিনি আশা করেন এই সাফল্য যতটুকুই হোক, তা কোনো সন্তান বা বন্ধুকে নিজের এলাকা বদলে দিতে অনুপ্রাণিত করবে। সংস্থাটি ইচ্ছাকৃতভাবেই এতটা ছোট ও এতটা স্থানীয়, যাতে অন্য কেউ সহজেই এর অনুকরণ করতে পারেন।

পারিবারিক উত্তরাধিকার

এ অঞ্চলে খায়ের মিয়া সাব নামে পরিচিত এ. কে. রফিকুল হুসাইন ছিলেন একজন ব্যারিস্টার, সংসদ সদস্য ও জাতীয় নেতা, যাঁর নাম বহন করছে এই সংস্থা। তাঁর বাবা পীর খাজা মাওলানা আব্দুল ওয়াসে ছিলেন প্রতিষ্ঠাতার দাদা। দুজনেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জনসেবায় জীবন কাটিয়েছেন, আর বাইশমৌজা বাজারের এই ক্লিনিক পরিবারটির ভাবনায় সবচেয়ে সহজ রূপে সেই কাজেরই ধারাবাহিকতা।

সমাজের সাহসী মানুষদের গল্প

প্রতিষ্ঠাতার চিঠি শেষ হয়েছে তিনটি পরিবারের কথা দিয়ে। তিনটি পরিবারই সংস্থার কাছে এসেছিল এমন এক সময়ে, যখন সামান্য কিছু টাকা বা একটিমাত্র প্রাণীই ছিল কোনোভাবে চলা আর একেবারেই না চলার মধ্যে পার্থক্য। তাঁদের অনুমতি নিয়ে তাঁদের পূর্ণ গল্প সাফল্যের গল্প বিভাগে প্রকাশ করা হয়েছে।

আশার এক ঝিলিক

নুসহিকা আক্তার (Nush'hika Akter) অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা মো. নাসার মিয়া এবং গৃহিণী মা মারুফা আক্তারই তার চিরকালের অনুপ্রেরণা। বড় হয়ে বাবার মুখে হাসি ফোটানোই তার স্বপ্ন। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সাহায্য করা উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় সে আবুল খায়ের ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সহায়তা পাচ্ছে।

প্রতিকূলতা জয় করে

আবুল খায়ের ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সহায়তা পাওয়া আনহার (Anhar) আমাদের ছোট্ট একটি সাহায্য নিয়ে নিজের ওষুধের দোকান শুরু করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাঁর এই সাফল্য আমাদের আনন্দ ও গর্বের কারণ। অনুদানটি ছিল সামান্য এবং একবারের জন্য; দোকান, পণ্য ও ক্রেতা, সবই তাঁর নিজের গড়া।

এক বাবার অদম্য মনোবল

স্ত্রীহারা বাবা মাসুদ (Masud) একাই তাঁর একমাত্র প্রতিবন্ধী ছেলেকে বড় করছেন। আবুল খায়ের ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সহায়তায় তিনি একটি অনুদান পান, যা দিয়ে তাঁর চটপটির ব্যবসাটি দাঁড় করান এবং ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা তৈরি করেন। তাঁর অদম্য মনোবল আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করে, আর তাঁর দোকানটিই এখন সংসারের নিয়মিত আয়ের উৎস।

তাঁদের গল্প পড়ুন

Jharna Begum holds two of the goats she has raised from the single animal AKWO gave her in 2022সাফল্যের গল্প

​সাফল্যের গল্প: আত্মপ্রত্যয়ী ঝরনা বেগমের ঘুরে দাঁড়ানোর আখ্যান

2022 সালে হাজির হাটির খাঁ বাড়ির ঝরনা বেগমকে AKWO-এর স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় একটি ছাগী দেওয়া হয়। এখন তাঁর ছয়টি ছাগল।

পড়তে 3 মিনিট

Anhar behind the counter of the pharmacy he opened with a small grant from AKWOসাফল্যের গল্প

প্রতিকূলতা পেরিয়ে: আনহারের ফার্মেসি

আবুল খায়ের ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের ছোট একটি এককালীন অনুদানে নিজের ফার্মেসি খুলে আনহার স্বাবলম্বী হয়েছেন।

পড়তে 3 মিনিট

Masud holds his son outside their home in Nabinagarসাফল্যের গল্প

এক বাবার অদম্য মনোবল: মাসুদের দোকান

মাসুদ একাই তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলেকে বড় করছেন। AKWO-এর একটি অনুদান তাঁর চটপটির ব্যবসাটিকে শক্ত ভিতে দাঁড় করিয়েছে এবং পরিবারটিকে দিয়েছে নিয়মিত আয়।

পড়তে 3 মিনিট

প্রতিষ্ঠাতা যেভাবে চেয়েছেন সেভাবেই দিন

কোনো স্মৃতিস্তম্ভের জন্য নয়, নবীনগর উপজেলার মানুষের ওষুধ, খাবার, কম্বল ও পড়াশোনার খরচের জন্য।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার-এ নিবন্ধিত · রেজিস্ট্রেশন নম্বর Brahman 615/24